হাওজা নিউজ এজেন্সি: নারী ও পরিবার গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মোহাম্মদ রেজা জিবায়ি নেজাদ ‘মায়ের মাধ্যমে পরিবারে অকার্যকর বাবার কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঠিক উপায়’ শীর্ষক এক প্রশ্নের উত্তরে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
প্রশ্ন: যে পরিবারে বাবা তার মূল দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন না, সেখানে মা কীভাবে বাবার অবস্থান ও কর্তৃত্বকে শক্তিশালী করতে পারেন, অথচ নিজেই যেন পরিবারের প্রধানের ভূমিকায় চলে না যান?
উত্তর: এ ধরনের পরিবারে কখনো কখনো দেখা যায়, কিছু নারী স্বামী ও সন্তানদের ক্ষেত্রে এমন কিছু দায়িত্বও পালন করছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত এবং পারিবারিক ভূমিকার স্বাভাবিক সীমার বাইরে চলে যায়। যেমন—স্বামীকে মোজা পরিয়ে দেওয়া কিংবা ছোট সন্তানের নখ কেটে দেওয়া।
এ ধরনের আচরণ নারীর ওপর এমন কিছু ছোটখাটো ও অপ্রয়োজনীয় দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ার উদাহরণ, যা পারিবারিক দায়িত্বের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
কিছু দায়িত্ব মূলত নারীর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। যেমন, পরিবারের প্রয়োজনীয় ও মৌলিক কেনাকাটা—বিশেষ করে স্বামী যখন বাড়িতে উপস্থিত থাকেন—তার দায়িত্ব স্বামীরই হওয়া উচিত।
আমার নিজের পরিবারেও আমরা বিষয়টি এভাবেই অনুসরণ করি। আমার স্ত্রীও তার নিজের পরিবারের প্রচলিত রীতির মতো আমাদের পরিবারেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করেন।
অবশ্য বিশেষ পরিস্থিতিতে—যেমন আমি শহরের বাইরে থাকলে—আমার স্ত্রী রুটি বা মাংসের মতো প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বাইরে যান। কিন্তু আমি যখন বাড়িতে থাকি, তখন এসব দায়িত্ব আমারই। তাই আমি উপস্থিত থাকা অবস্থায় পরিবারের মৌলিক কেনাকাটার দায়িত্ব স্ত্রীর ওপর থাকার কোনো অর্থ নেই।
অবশ্য কিছু কেনাকাটা আছে, যেগুলো নারীদের প্রয়োজন ও ব্যবহারের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত—যেমন বুটিক থেকে পোশাক কেনা বা ব্যক্তিগত সামগ্রী কেনা। এগুলো স্বাভাবিকভাবেই নারীর দায়িত্ব হতে পারে।
এ ধরনের স্থান ও পরিবেশ অনেক সময় নারীকেন্দ্রিক হওয়ায় সেখানে পুরুষের উপস্থিতি তার জন্য অস্বস্তিকরও হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, আমার নিজের জন্য ঘরের পোশাকের একটি প্যান্ট কিনতে হলেও আমি চাইব আমার স্ত্রী সেটি কিনে আনুক। কারণ সে আমার মাপ জানে এবং এ ধরনের কেনাকাটা আমার চেয়ে ভালোভাবে করতে পারে।
পরিবারের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা, সন্তানের স্কুলে ভর্তি বা নিবন্ধন এবং অন্যান্য পারিবারিক দায়িত্ব—যেগুলো সামাজিক রীতি ও দায়িত্ববোধ অনুযায়ী বাবার ওপর বর্তায়—সেগুলো বাবারই পালন করা উচিত।
এ পরিস্থিতিতে স্ত্রী তার স্বামীকে এসব দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ করে দিতে পারেন। তবে স্বামীর দায়িত্বের শূন্যতা সবসময় নিজের কাজ দিয়ে পূরণ করে তাকে নির্ভরশীল করে তোলা উচিত নয়। বরং স্ত্রীকে মর্যাদাপূর্ণ ও বিচক্ষণ আচরণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এসব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হবে, যাতে স্বামী নিজেই পর্যায়ক্রমে নিজের ভূমিকা গ্রহণ করেন।
উদাহরণস্বরূপ, মা বাবাকে বলতে পারেন, “আমি কাজটি করতে পারি। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, আপনি যেহেতু পরিবারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, তাই কাজটি আপনারই করা ভালো।”
অথবা কোনো কাজ স্ত্রীকে করতে হলে সেটিকে নিজের নিয়মিত দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং স্বামীকে সহায়তা ও সহযোগিতা করার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এতে স্বামী মনে করবেন না যে এসব দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই স্ত্রীর ওপর বর্তায়।
বাস্তবে অনেক সময় নারীরাও নিজেদের কিছু ভুল আচরণের মাধ্যমে এবং এর পরিণতি বিবেচনা না করে পরিবারের এই ত্রুটিপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও স্থায়ী করে তুলতে পারেন।
সূত্র: হাওজা নিউজ; হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মোহাম্মদ রেজা জিবায়ি নেজাদ, নারী ও পরিবার গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান।
আপনার কমেন্ট